‘আমার সামনেই আম্মুকে পিটিয়েছে বাবা। একবার নয়, অনেকবারই নির্মমভাবে
মেরেছে। তার কারণেই আমরা দু’ভাইবোন প্রিয় মাকে হারিয়েছি। বাবাই মাকে মেরে
ফেলেছে। এখন তার ফাঁসি চাই।’ গতকাল রাজধানীর শাহজাহানপুরে কান্নাজড়িত কণ্ঠে
এমন অভিমানী অভিব্যক্তির কথা জানালো তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র সিয়াম। সে
বলেছে, মাম্মিকে মারতে বারণ করলেও বাবা কখনও তার কথা শোনেনি। তখন থেকেই
পিতার বিরুদ্ধে তার ক্ষোভ জমা হতে থাকে। গত মঙ্গলবার ভোরে শাহজাহানপুর
ঝিলপাড় মসজিদ সংলগ্ন ডোবা থেকে সিয়ামের মা জিন্নাত সুলতানা সোনিয়ার লাশ
উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সোনিয়ার ভাই রাসেল বাদী হয়ে শাহজাহানপুর থানায়
হত্যা মামলা দায়ের করে। ঘটনার পরপরই পুলিশ সোনিয়ার স্বামীকে গ্রেপ্তার করে
তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই মাসুদ আলম বলেন,
ধারণা করা হচ্ছে এটি হত্যাকাণ্ড। এর নেপথ্যে নিহতের স্বামীর হাত থাকতে
পারে। সোনিয়ার ভাই রাসেল হোসেন বলেন, যৌতুকের দাবিতে তার বোনকে
পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। সোনিয়া দুই সন্তানের জননী। স্বামী ও
সন্তানদের নিয়ে থাকতেন শাহজাহানপুরের ১৩/বি নম্বর বাসায়। গতকাল শাহজাহানপুর
থানাধীন দক্ষিণ খিলগাঁওয়ে নিহতের বাড়ি সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, সোনিয়াকে
হারিয়ে স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে। সোনিয়ার মা নুরে খানম আর্তনাদ করে
বলেন, আমি তো আর মেয়েকে ফিরে পাবো না। কিন্তু যে আমার বুক খালি করেছে সেই
শয়তানের শাস্তি চাই। তার মতো যেন আর কোন মায়ের বুক খালি না হয়। একমাত্র বড়
বোনকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তার দুই ভাই। তারা বলেন, আমার বোনকে
হত্যা করা হয়েছে। এখন ঘাতকের শাস্তি চাই। এলাকাবাসী জানান, সোনিয়া তার
পরিবারে বড় আদরের এবং ভদ্র ও বিনয়ী ছিলেন। মা ও ছোট ভাই দু’টির কারণে বাবার
বাড়ির পাশের গলিতে বাসা ভাড়া করে ২ সন্তান নিয়ে সংসার করছিলেন। প্রতিদিনই
‘বজ্জাত ব্যাটা’ স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করতো বললেন প্রতিবেশী জুলেখা বেগম
(৬৫)।
শ্বশুরালয় থেকে টাকা নিয়ে বাবুগিরি করাটা মনিরের বেশ অভ্যাসে দাঁড়িয়ে ছিল। টাকা না দিলেই স্ত্রী জিনাত সুলতানা সোনিয়াকে পেটাতেন। নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোনিয়া ৯ নং দক্ষিণ খিলগাঁও’র মৃত সুলতান আহমেদের বড় কন্যা। মনির লক্ষ্মীপুর জেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের মনসুর আহমেদের পুত্র। কাজের আশায় ঢাকায় এসে তার মামা শাহ আলমের দক্ষিণ খিলগাঁও ৭২/২ বাসায় ওঠে। মামার বাংলাবাজারের মোটর পার্টস দোকানে বেতনভুক্ত কর্মচারী হয়ে কাজ শুরু করে। ১২ বছর আগে সোনিয়াদের বাসার ভাড়াটিয়া সিদ্দিক নামের জনৈক মিস্ত্রির কাছে নিয়মিত আসা-যাওয়ার সূত্র ধরে সোনিয়ার সঙ্গে মনিরের মন দেয়া-নেয়া শুরু হয়। পরে বাবা-মা’র অগোচরে সোনিয়া ২০০০ সালের নভেম্বর মাসে পালিয়ে আদালতে বিয়ে করে। মনির মামা ও তার পরিবার মেনে নিলেও সোনিয়ার পরিবার মেনে নিতে পারেনি এ বিয়ে। প্রায় দেড় বছর পর বিয়ে মেনে নেয়। সোনিয়া পরিবারের বড় মেয়ে। ছোট দুই ভাই রাসেল ও রাজিব তাদের বড় বোনের শূন্যতায় ভীষণ কষ্ট পাচ্ছিল। ছোট ভাইদের অনুরোধেই সেদিন মা নুরে খানম অবশেষে সোনিয়ার স্বামী মনিরকে জামাই বলে মেনে নেন। সোনিয়ার বাবা-মায়ের অর্থ সম্পদ থাকার কারণে মনির মাঝে-মধ্যেই নানা বায়নায় যৌতুক নিয়েছে। মনিরের দাবি পূরণ না হলে সোনিয়ার ওপর অত্যাচার শুরু হতো। সোনিয়ার পরিবার স্বামীকে ছেড়ে আসতে বললেও প্রেমের বিয়ের কারণে তিনি রাজি হননি। তবে মতিঝিল থানায় এ সংক্রান্ত একাধিক জিডি আছে। সোনিয়ার ধারণা ছিল- হয়তো তার স্বামী ভাল হয়ে যাবে। ভালবেসে যাকে বিয়ে করেছে সে কখনও প্রতারণা করবে না। হয়তো একসময় ঠিক হয়ে যাবে। মায়ের কাছে আক্ষেপ করে বলতেন, মেয়েদের দ্বিতীয় বিয়ে লজ্জাজনক। তাই মনিরের নির্যাতন ও নিপীড়ন মুখ বুজে সহ্য করেছে। সোনিয়ার স্বজনরা আরও জানান, তার মুখের দিকে চেয়ে মনিরকে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ করে মালয়েশিয়ায় পাঠিয়েছিল। কিন্তু ১৫-২০ দিন পরেই দেশে ফেরার জন্য অস্থির হয়ে ওঠে। পরে এক মাসের মাথায় দেশে ফিরে আসে। সোনিয়াকে হত্যার কিছুদিন আগে মনিরের সর্বশেষ দাবি মেটায় সোনিয়া পরিবার। একটি মোটরসাইকেল কিনতে মনিরকে নগদ দেড় লাখ টাকা দেয়। ওই মোটরসাইকেলের সামনে ‘পুলিশ’ লিখে চলাচলের দায়ে ২০শে সেপ্টেম্বর শাহবাগ থানা পুলিশের হাতে ভুয়া পুলিশ হিসেবে গ্রেপ্তার হয় সে। এদিকে মনিরের বিরুদ্ধে মামলার পর থেকেই সোনিয়ার পরিবারকে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা হত্যার হুমকি দিচ্ছে বলে স্বজনরা অভিযোগ করেছেন। উল্লেখ্য, গত ২রা অক্টোবর দিবাগত রাতে শাহজাহানপুর থানার ১৩/বি দক্ষিণ খিলগাঁওয়ের ফয়েজ আহমেদের বাসার ভাড়াটিয়া মনির হোসেন বাদল নিজ শয়নকক্ষে শ্বাসরুদ্ধ করে তার স্ত্রী জিনাত সুলতানা সোনিয়া (৩১)-কে হত্যা করে। এসময় নিজে বাঁচার জন্য বাসার পাশের গুলবাগ লেকে কৌশলে স্ত্রীর লাশ ফেলে দিয়ে নিকটবর্তী শ্বশুরালয়ে এসে জানায়, সোনিয়া পানিতে ঝাঁপ দিয়েছে। আনুমানিক রাত আড়াইটার সময় সোনিয়ার মা, ভাই ও স্বজনরা সোনিয়ার লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
শ্বশুরালয় থেকে টাকা নিয়ে বাবুগিরি করাটা মনিরের বেশ অভ্যাসে দাঁড়িয়ে ছিল। টাকা না দিলেই স্ত্রী জিনাত সুলতানা সোনিয়াকে পেটাতেন। নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোনিয়া ৯ নং দক্ষিণ খিলগাঁও’র মৃত সুলতান আহমেদের বড় কন্যা। মনির লক্ষ্মীপুর জেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের মনসুর আহমেদের পুত্র। কাজের আশায় ঢাকায় এসে তার মামা শাহ আলমের দক্ষিণ খিলগাঁও ৭২/২ বাসায় ওঠে। মামার বাংলাবাজারের মোটর পার্টস দোকানে বেতনভুক্ত কর্মচারী হয়ে কাজ শুরু করে। ১২ বছর আগে সোনিয়াদের বাসার ভাড়াটিয়া সিদ্দিক নামের জনৈক মিস্ত্রির কাছে নিয়মিত আসা-যাওয়ার সূত্র ধরে সোনিয়ার সঙ্গে মনিরের মন দেয়া-নেয়া শুরু হয়। পরে বাবা-মা’র অগোচরে সোনিয়া ২০০০ সালের নভেম্বর মাসে পালিয়ে আদালতে বিয়ে করে। মনির মামা ও তার পরিবার মেনে নিলেও সোনিয়ার পরিবার মেনে নিতে পারেনি এ বিয়ে। প্রায় দেড় বছর পর বিয়ে মেনে নেয়। সোনিয়া পরিবারের বড় মেয়ে। ছোট দুই ভাই রাসেল ও রাজিব তাদের বড় বোনের শূন্যতায় ভীষণ কষ্ট পাচ্ছিল। ছোট ভাইদের অনুরোধেই সেদিন মা নুরে খানম অবশেষে সোনিয়ার স্বামী মনিরকে জামাই বলে মেনে নেন। সোনিয়ার বাবা-মায়ের অর্থ সম্পদ থাকার কারণে মনির মাঝে-মধ্যেই নানা বায়নায় যৌতুক নিয়েছে। মনিরের দাবি পূরণ না হলে সোনিয়ার ওপর অত্যাচার শুরু হতো। সোনিয়ার পরিবার স্বামীকে ছেড়ে আসতে বললেও প্রেমের বিয়ের কারণে তিনি রাজি হননি। তবে মতিঝিল থানায় এ সংক্রান্ত একাধিক জিডি আছে। সোনিয়ার ধারণা ছিল- হয়তো তার স্বামী ভাল হয়ে যাবে। ভালবেসে যাকে বিয়ে করেছে সে কখনও প্রতারণা করবে না। হয়তো একসময় ঠিক হয়ে যাবে। মায়ের কাছে আক্ষেপ করে বলতেন, মেয়েদের দ্বিতীয় বিয়ে লজ্জাজনক। তাই মনিরের নির্যাতন ও নিপীড়ন মুখ বুজে সহ্য করেছে। সোনিয়ার স্বজনরা আরও জানান, তার মুখের দিকে চেয়ে মনিরকে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ করে মালয়েশিয়ায় পাঠিয়েছিল। কিন্তু ১৫-২০ দিন পরেই দেশে ফেরার জন্য অস্থির হয়ে ওঠে। পরে এক মাসের মাথায় দেশে ফিরে আসে। সোনিয়াকে হত্যার কিছুদিন আগে মনিরের সর্বশেষ দাবি মেটায় সোনিয়া পরিবার। একটি মোটরসাইকেল কিনতে মনিরকে নগদ দেড় লাখ টাকা দেয়। ওই মোটরসাইকেলের সামনে ‘পুলিশ’ লিখে চলাচলের দায়ে ২০শে সেপ্টেম্বর শাহবাগ থানা পুলিশের হাতে ভুয়া পুলিশ হিসেবে গ্রেপ্তার হয় সে। এদিকে মনিরের বিরুদ্ধে মামলার পর থেকেই সোনিয়ার পরিবারকে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা হত্যার হুমকি দিচ্ছে বলে স্বজনরা অভিযোগ করেছেন। উল্লেখ্য, গত ২রা অক্টোবর দিবাগত রাতে শাহজাহানপুর থানার ১৩/বি দক্ষিণ খিলগাঁওয়ের ফয়েজ আহমেদের বাসার ভাড়াটিয়া মনির হোসেন বাদল নিজ শয়নকক্ষে শ্বাসরুদ্ধ করে তার স্ত্রী জিনাত সুলতানা সোনিয়া (৩১)-কে হত্যা করে। এসময় নিজে বাঁচার জন্য বাসার পাশের গুলবাগ লেকে কৌশলে স্ত্রীর লাশ ফেলে দিয়ে নিকটবর্তী শ্বশুরালয়ে এসে জানায়, সোনিয়া পানিতে ঝাঁপ দিয়েছে। আনুমানিক রাত আড়াইটার সময় সোনিয়ার মা, ভাই ও স্বজনরা সোনিয়ার লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

No comments:
Post a Comment