Saturday, October 6, 2012

শাহজাহানপুরে যৌতুকের দাবিতে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন

‘আমার সামনেই আম্মুকে পিটিয়েছে বাবা। একবার নয়, অনেকবারই নির্মমভাবে মেরেছে। তার কারণেই আমরা দু’ভাইবোন প্রিয় মাকে হারিয়েছি। বাবাই মাকে মেরে ফেলেছে। এখন তার ফাঁসি চাই।’ গতকাল রাজধানীর শাহজাহানপুরে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এমন অভিমানী অভিব্যক্তির কথা জানালো তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র  সিয়াম। সে বলেছে, মাম্মিকে মারতে বারণ করলেও বাবা কখনও তার কথা শোনেনি। তখন থেকেই পিতার বিরুদ্ধে তার ক্ষোভ জমা হতে থাকে। গত মঙ্গলবার ভোরে শাহজাহানপুর ঝিলপাড় মসজিদ সংলগ্ন ডোবা থেকে সিয়ামের মা জিন্নাত সুলতানা সোনিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সোনিয়ার ভাই রাসেল বাদী হয়ে শাহজাহানপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। ঘটনার পরপরই পুলিশ সোনিয়ার স্বামীকে গ্রেপ্তার করে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই মাসুদ আলম বলেন, ধারণা করা হচ্ছে এটি হত্যাকাণ্ড। এর নেপথ্যে নিহতের স্বামীর হাত থাকতে পারে।  সোনিয়ার ভাই রাসেল হোসেন বলেন, যৌতুকের দাবিতে তার বোনকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। সোনিয়া দুই সন্তানের জননী। স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে থাকতেন শাহজাহানপুরের ১৩/বি নম্বর বাসায়। গতকাল শাহজাহানপুর থানাধীন দক্ষিণ খিলগাঁওয়ে নিহতের বাড়ি সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, সোনিয়াকে হারিয়ে স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে। সোনিয়ার মা নুরে খানম আর্তনাদ করে বলেন, আমি তো  আর মেয়েকে ফিরে পাবো না।  কিন্তু যে আমার বুক খালি করেছে সেই শয়তানের শাস্তি চাই। তার মতো যেন আর কোন মায়ের বুক খালি না হয়। একমাত্র বড় বোনকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তার দুই ভাই। তারা বলেন, আমার বোনকে হত্যা করা হয়েছে। এখন ঘাতকের শাস্তি চাই। এলাকাবাসী জানান,  সোনিয়া তার পরিবারে বড় আদরের এবং ভদ্র ও বিনয়ী ছিলেন। মা ও ছোট ভাই দু’টির কারণে বাবার বাড়ির পাশের গলিতে বাসা ভাড়া করে ২ সন্তান নিয়ে সংসার করছিলেন। প্রতিদিনই ‘বজ্জাত ব্যাটা’ স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করতো বললেন প্রতিবেশী জুলেখা বেগম (৬৫)।
শ্বশুরালয় থেকে টাকা নিয়ে বাবুগিরি করাটা মনিরের বেশ অভ্যাসে দাঁড়িয়ে ছিল। টাকা না দিলেই স্ত্রী জিনাত সুলতানা সোনিয়াকে পেটাতেন। নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোনিয়া  ৯ নং দক্ষিণ খিলগাঁও’র মৃত সুলতান আহমেদের বড় কন্যা। মনির লক্ষ্মীপুর জেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের মনসুর আহমেদের পুত্র। কাজের আশায় ঢাকায় এসে তার মামা শাহ আলমের দক্ষিণ খিলগাঁও ৭২/২ বাসায় ওঠে। মামার বাংলাবাজারের মোটর পার্টস দোকানে  বেতনভুক্ত কর্মচারী হয়ে কাজ শুরু করে। ১২ বছর আগে সোনিয়াদের বাসার ভাড়াটিয়া সিদ্দিক নামের জনৈক মিস্ত্রির কাছে নিয়মিত আসা-যাওয়ার সূত্র ধরে সোনিয়ার সঙ্গে মনিরের মন দেয়া-নেয়া শুরু হয়। পরে বাবা-মা’র অগোচরে সোনিয়া ২০০০ সালের নভেম্বর মাসে পালিয়ে  আদালতে বিয়ে করে। মনির মামা ও তার পরিবার মেনে নিলেও সোনিয়ার পরিবার মেনে নিতে পারেনি এ বিয়ে। প্রায় দেড় বছর পর বিয়ে মেনে নেয়। সোনিয়া পরিবারের বড় মেয়ে। ছোট দুই ভাই রাসেল ও রাজিব তাদের বড় বোনের শূন্যতায়  ভীষণ কষ্ট পাচ্ছিল। ছোট ভাইদের অনুরোধেই সেদিন মা নুরে খানম অবশেষে সোনিয়ার স্বামী মনিরকে জামাই বলে মেনে নেন। সোনিয়ার বাবা-মায়ের অর্থ সম্পদ থাকার কারণে মনির মাঝে-মধ্যেই নানা বায়নায় যৌতুক নিয়েছে। মনিরের দাবি পূরণ না হলে সোনিয়ার ওপর অত্যাচার শুরু হতো। সোনিয়ার পরিবার স্বামীকে ছেড়ে আসতে বললেও প্রেমের বিয়ের কারণে তিনি রাজি হননি। তবে মতিঝিল থানায় এ সংক্রান্ত একাধিক জিডি আছে। সোনিয়ার ধারণা ছিল- হয়তো তার স্বামী ভাল হয়ে যাবে। ভালবেসে যাকে বিয়ে করেছে সে কখনও প্রতারণা করবে না। হয়তো একসময় ঠিক হয়ে যাবে। মায়ের কাছে আক্ষেপ করে বলতেন, মেয়েদের দ্বিতীয় বিয়ে লজ্জাজনক। তাই মনিরের নির্যাতন ও নিপীড়ন মুখ বুজে সহ্য করেছে। সোনিয়ার স্বজনরা আরও জানান, তার মুখের দিকে চেয়ে মনিরকে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ করে মালয়েশিয়ায় পাঠিয়েছিল। কিন্তু ১৫-২০ দিন পরেই দেশে ফেরার জন্য অস্থির হয়ে ওঠে। পরে  এক মাসের মাথায় দেশে ফিরে আসে। সোনিয়াকে হত্যার কিছুদিন আগে মনিরের সর্বশেষ দাবি মেটায় সোনিয়া পরিবার। একটি মোটরসাইকেল কিনতে মনিরকে নগদ দেড় লাখ টাকা দেয়। ওই মোটরসাইকেলের সামনে ‘পুলিশ’ লিখে চলাচলের দায়ে ২০শে সেপ্টেম্বর শাহবাগ থানা পুলিশের হাতে ভুয়া পুলিশ হিসেবে গ্রেপ্তার হয় সে। এদিকে মনিরের বিরুদ্ধে মামলার পর থেকেই সোনিয়ার পরিবারকে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা হত্যার হুমকি দিচ্ছে বলে স্বজনরা অভিযোগ করেছেন। উল্লেখ্য, গত ২রা অক্টোবর দিবাগত রাতে শাহজাহানপুর থানার ১৩/বি দক্ষিণ খিলগাঁওয়ের ফয়েজ আহমেদের বাসার ভাড়াটিয়া মনির হোসেন বাদল নিজ শয়নকক্ষে শ্বাসরুদ্ধ করে তার স্ত্রী জিনাত সুলতানা সোনিয়া (৩১)-কে হত্যা করে। এসময় নিজে বাঁচার জন্য বাসার পাশের গুলবাগ লেকে কৌশলে স্ত্রীর লাশ ফেলে দিয়ে নিকটবর্তী শ্বশুরালয়ে এসে জানায়, সোনিয়া পানিতে ঝাঁপ দিয়েছে। আনুমানিক রাত আড়াইটার সময় সোনিয়ার মা, ভাই ও স্বজনরা সোনিয়ার লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

Thursday, September 20, 2012

শ্রীমঙ্গলে মধ্যরাতে গাড়িতে তরুণীর লাশ, আটক ২

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে গণধর্ষণ শেষে ডেসটিনি কর্মী এক তরুণীকে হত্যার পর কুলাউড়ায় লাশ ফেলতে এসে বিলাসবহুল প্রাইভেটকারসহ আটক হয়েছে দুই ধর্ষক। দুই ধর্ষককে গতকাল শনিবার কুলাউড়া থানার পুলিশ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। আর তাদের প্রাইভেটকারও (ঢাকা মেট্রো গ ২১-৮৮২১) পুলিশ আটক করেছে। গত শনিবার ভোর রাতে এ ঘটনা ঘটে। লোমহর্ষক এ ঘটনায় জেলাজুড়ে তোলপাড় চলছে।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন গতকাল এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে এ ঘটনায় আটককৃত দুজনের উদ্বৃতি দিয়ে জানান, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশ্রিদোন গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে মুরাদুর রহমান মুরাদ (২৪) ও প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো গ ২১-৮৮২১) চালক মতিগঞ্জ গ্রামের মৃত প্রমোদ সরকারের ছেলে বিকন সরকার (২৮) শ্রীমঙ্গল টি-রিসোর্টে যায়। এ সময় তাদের সঙ্গে ছিল বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ ইউনিয়নের দোহালিয়া গ্রামের খোরশেদ আলমের মেয়ে ডেসটিনির কর্মী সোহানা বেগম (১৮)। টি-রিসোর্টের নাইট গার্ড কামালের (৩৫) যোগসাজশে ৯ নম্বর কটেজ ভাড়া নেয়। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, টি-রিসোর্টের ডায়রিতে নজরুল নামে বুকিং দেওয়া হয়।

আটক মুরাদ ও বিকন সরকার পুলিশকে জানায়, গভীর রাত পর্যন্ত শ্রীমঙ্গলের এক রাজনৈতিক নেতাসহ ৮-১০ জন সোহানাকে নিয়ে মনোরঞ্জন করেন। এর এক পর্যায়ে তর্কাতর্কির জের ধরে হত্যা করা হয় সোহানাকে। এরপর বিকন ও মুরাদ সোহানার মৃতদেহ গাড়িতে তুলে পেছনের সিটে বসিয়ে রেখে সুবিধাজনক স্থানে ফেলতে রওনা হয়।

ঘটনাকারী বিকন ও মুরাদ পুলিশকে আরও জানায়, প্রথমে মৌলভীবাজার সদরের সরকার বাজার এলাকায় যায়। সেখানে লোকজন ও গাড়ি চলাচলের কারণে লাশ ফেলতে না পেরে সোহানার লাশ কুলাউড়ায় নিয়ে আসে। কুলাউড়া থেকে রবিরবাজার রোডে রওনা হলে চৌধুরীবাজার নামক স্থানে টহল পুলিশ তাদের গাড়ির গতিরোধ করে। এ সময় গাড়ি চালক বিকন গাড়ি ফেলে পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন অবশ্য পরে বিবস্ত্র অবস্থায় বিকনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এদিকে পুলিশ গাড়ির ভেতরে থাকা সোহানার লাশও মুরাদকে আটক করে। সোহানার সঙ্গে থাকা ব্যাগে ডেসটিনির একটি পরিচয়পত্র কার্ড থেকে তথ্য যোগাড় করে পুলিশ সোহানার বাবা খোরশেদ আলমকে খবর দেয়। খোরশেদ আলম থানায় এসে মেয়ের লাশ শনাক্ত করেন।

এদিকে শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ টি-রিসোর্টের নাইট গার্ড কামালকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তবে থানার পুলিশ তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানায়।

সহকারী পুলিশ সুপার কুলাউড়া সার্কেল মো. আলমগীর হোসেন আরও জানান, লাশের ময়না তদনত্দের জন্য মৌলভীবাজার হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। মেয়ের বাবা খোরশেদ আলম এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ দায়ের করবেন। সুরতহাল রিপোর্টে সোহানাকে গলাটিপে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে।

Sunday, February 12, 2012

রাজধানীতে নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন সাংবাদিক দম্পতি। মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারওয়ার ও তার স্ত্রী এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন রুনি ঢাকার প্রাণকেন্দ্র ফার্মগেট সংলগ্ন পশ্চিম রাজাবাজারে ভাড়া বাসায় দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে তাদের খুন করা হয়। গতকাল সকালে পুলিশ তাদের হাত-পা বাঁধা রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে। সাগরের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারাল অস্ত্রের ২৫টি আঘাত ছিল। তার বুকের বাম পাশে বাঁটবিহীন একটা ছুরির ৮০ ভাগ গেঁথে ছিল। মেহেরুন রুনির শরীরে তিনটি আঘাত করা হয়েছে। এছাড়াও তার পেটের মাঝখানে লম্বা করে কাটা ছিল। এতে তার নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে গেছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি ছুরি ও দু’জনের মোবাইল ফোন উদ্ধার করে পুলিশ। তবে তাদের ৫ বছর বয়সী একমাত্র পুত্রসন্তান মাহীন সারওয়ার মেঘ অক্ষত রয়েছে। এই মেঘই তার নানীকে টেলিফোন করে মা-বাবার মৃত্যুর খবর জানায়। দেশ-বিদেশে চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী ভয়াবহ এ হত্যাকাণ্ড কে বা কারা ঘটিয়েছে তা গতরাত পর্যন্ত উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ এ ঘটনায় বাসার নিরাপত্তা প্রহরী পলাশ রুদ্র পাল ও হুমায়ুন কবীরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে নিহতদের মোবাইল ফোনের কললিস্ট পরীক্ষা করে মেহেরুন রুনির ভাই নওজেশ আলম নোমানকে গতকাল দুপুর ২টার সময়ে আটক করা হলেও বিকাল ৪টার দিকে তাকে ছেড়ে দেয়া হয় এছাড়াও পরিবারের আরও ৪/৫ জনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে পুলিশ জানায় ওদিকে ৪ দফা জানাজা শেষে নিহত দুই সাংবাদিককে আজিমপুর কবরস্থানে রাতে দাফন করা হয়েছে
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে র্যাব ও গোয়েন্দারা জানান, পারিবারিক বিরোধে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে নিহতদের স্বজনরা জানান, সাগর ও রুনির সঙ্গে কারও পারিবারিক বিরোধ আছে বলে তাদের জানা নেই। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডকে পারিবারিক হত্যাকাণ্ড বলে ভিন্নদিকে প্রবাহিত করা হলে তারা তা মানবেন না বলেও জানান। নোমানকে ঘটনার পর গোয়েন্দারা আটক করে নেয়ার পর পরিবারের চাপের মুখে তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। পরে গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, তাকে গ্রেফতার করা হয়নি, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেয়া হয়েছিল।
এদিকে সাংবাদিক দম্পতি খুন হওয়ার ঘটনায় গোটা গণমাধ্যম জগতে শোকের ছায়া নেমে আসে। সংবাদকর্মীরা তাদের প্রিয় দুই সহকর্মীকে একসঙ্গে হারিয়ে শোকবিহবল হয়ে পড়েন। মর্গ ও জানাজাস্থলে অনেক সাংবাদিক কান্নায় ভেঙে পড়েন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়াসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সাংবাদিক নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী গতকাল এক বিবৃতিতে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন। অপরদিকে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া দুই সাংবাদিকের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড সরকারের দুর্বিনীত দুঃশাসনের ফল উল্লেখ করে বলেন, এ ঘটনার মাধ্যমে আবারও প্রমাণ হলো দেশে আইনশৃঙ্খলার ভয়াবহ অবনতি ঘটেছে। সাধারণ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার ন্যূনতম কোনো নিশ্চয়তা নেই। তিনি হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে তাদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
একই সঙ্গে দু’জন সহকর্মীর মৃত্যুর খবরে সকাল থেকেই সাংবাদিক মহলসহ এলাকার শত শত মানুষ পশ্চিম রাজাবাজারে ৫৮/এ/২ নম্বর হোল্ডিংয়ের শাহজালাল রশিদ লজের ভাড়া বাসায় (এ/৪ ফ্ল্যাট) ভিড় জমায়। ছয়তলার এই বাসার পঞ্চমতলায় একমাত্র ছেলেকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন সাগর-রুনি দম্পতি। সহকর্মী ও সিনিয়র সাংবাদিকসহ ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা বাসায় ছুটে যান। সহকর্মীর এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডে স্তব্ধ ও বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন সবাই।
র্যাব, সিআইডি, মহানগর গোয়েন্দা পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য নিয়ে গেছেন। তবে কী কারণে এ জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে এ বিষয়ে তারা এখনও নিশ্চিত হতে পারেননি। গোয়েন্দাদের প্রাথমিক ধারণা, পারিবারিক বিরোধের কারণে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, কি কারণে এ জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে তা নিশ্চিত না হলেও পারিবারিক কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার, ডিএমপি কমিশনার বেনজির আহমেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। রাজধানীতে নিজ ফ্ল্যাটে দুই সিনিয়র সাংবাদিক খুনের ঘটনায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ধস নেমেছে কিনা—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাব দেননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। নৃশংসভাবে সাংবাদিক দম্পতি খুনের ঘটনায় সাংবাদিকদের প্রশ্নবাণে অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ তার সঙ্গে থাকা পুলিশ কর্মকর্তারা।
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তার প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ এবং বিশেষ সহকারী (গণমাধ্যম) মাহাবুবুল আলম শাকিল ঘটনাস্থলে গিয়ে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের আশ্বাস দেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকসহ অনেকেই খবর পেয়ে ছুটে আসেন। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান তারা।
জানা গেছে, তাদের ফ্ল্যাটের প্রধান দরজা অক্ষত এবং ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। খুনিরা ঘটনার পর পালিয়ে গেলেও কেউ দেখেনি। ডাকাতির উদ্দেশে তাদের খুন করেছে নাকি খুন করে ডাকাতির ঘটনা সাজাতে আসবাবপত্র তছনছ করেছে তাও বলতে পারেনি পুলিশ। তবে ল্যাপটপ ও ক্যামেরাসহ মূল্যবান জিনিস ঘরে পাওয়া যাওয়ায় ডাকাতির ঘটনা হিসেবেও দেখা সম্ভব হচ্ছে না।
যেভাবে হত্যাকাণ্ডের খবর জানা যায় : সকাল ৭টার দিকে সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনির ৫ বছর বয়সী ছেলে মাহির সারওয়ার ওরফে মেঘ ঘুম থেকে উঠে তার বাবা-মায়ের শোয়ার ঘরে গিয়ে তাদের ক্ষতবিক্ষত লাশ দেখতে পায়। এরপর সে তার মায়ের মোবাইল ফোন দিয়ে তার নানীকে ঘটনা জানায়। সংবাদ পেয়ে মেঘের নানী ও মামারা বাসায় এসে সাগর ও রুনির মৃতদেহ দেখতে পান। সংবাদ পেয়ে শেরেবাংলানগর থানা পুলিশসহ ঊর্ধ্বতন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। শেরেবাংলানগর থানার ওসি জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, নিহতদের শোয়ার ঘরের মেঝেতে দু’জনের রক্তাক্ত লাশ পড়ে আছে। সাগরের হাত পিছমোড়া করে বাঁধা। দু’জনেরই শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত। তাদের ঘরের জিনিসপত্র ছিল এলোমেলো, ড্রয়ারগুলো ছিল খোলা। তবে ল্যাপটপ ও ক্যামেরার মতো দামি জিনিসপত্র ঘরেই পাওয়া গেছে। মূল্যবান কিছু খোয়া যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। অবশ্য রান্নাঘরের জানালার একটি গ্রিল কাটা দেখা গেছে।
নিহত সাগর সারওয়ার কয়েক বছর জার্মানির গণমাধ্যম ডয়চে ভ্যালে রেডিওতে কাজ করার পর গত বছরের শুরুতে দেশে ফিরে মাছরাঙায় যোগদান করেন। এর আগে তিনি সংবাদ, দৈনিক যুগান্তর ও ইত্তেফাকেও কাজ করেছেন। তাদের পৈতৃক বাড়ি ঢাকার নবাবপুর রোডে। গ্রামের বাড়ি পাবনা জেলার বেড়ার কাজিরহাটে। সাগর সারওয়ারের বাবার নাম মরহুম মনির হোসেন মণ্ডল। মায়ের নাম সালেহা বেগম। চার বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সাগর সারওয়ার ছিলেন তৃতীয়। তার বড় দু’বোনের নাম মুনমুন ও বুলন।
আর নিহত মেহেরুন রুনির মা রাজাবাজারে তাদের বাসার কাছেই থাকেন। এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার রুনি এর আগে সংবাদ, যুগান্তর ও চ্যানেল আইয়ে কাজ করেছেন। তার গ্রামের বাড়ি পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে।
পুলিশের ভাষ্য : ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার বেনজীর আহমদ বেলা ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে আসেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, দু’জন প্রতিশ্রুতিশীল সাংবাদিকের মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও বিয়োগান্তক। আমরা গোটা পুলিশ পরিবার এ ঘটনায় গভীর শোকাহত। পুলিশের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবার-পরিজনসহ সবার প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি। ঘটনাটি হত্যা, নাকি ডাকাতি—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, অল্প সময় আগে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। এ মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না। তবে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, যত দ্রুত সম্ভব জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
পুলিশের তেজগাঁও জোনের উপ-কমিশনার ইমাম হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ওই বাড়ির নিরাপত্তা প্রহরী পলাশ রুদ্র পালকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। সে জানিয়েছে, সাগর শুক্রবার বাসায় ফেরেন রাত ২টার দিকে। এরপর অপরিচিত আর কাউকে সে বাসায় ঢুকতে দেখেনি।
উপ-কমিশনার ইমাম হোসেন বলেন, রান্নাঘরের গ্রিল কাটা থাকায় ১ ফুট ৮ ইঞ্চির মতো ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়েছে। ওই জায়গা দিয়ে একটা বাচ্চা ভেতরে ঢুকতে পারবে। এ বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাতে ফেরেন সাগর, বাসায় ছিলেন রুনি : পারিবারিক ও সাগর-রুনির অফিস সূত্রে জানা গেছে, সাগর সারওয়ার শুক্রবার রাত দেড়টা পর্যন্ত অফিস করেছেন। এরপর তিনি বাসায় ফেরেন। আর মেহেরুন রুনির সকালের শিফটে অফিস থাকায় তিনি সন্ধ্যার পর থেকেই বাসায় ছিলেন। এটিএন বাংলার ক্যামেরাম্যান তপু সন্ধ্যা ৭টার দিকে মেহেরুন রুনিকে বাসায় নামিয়ে দেন বলে গতকাল সাংবাদিকদের জানান।
সাগরের সহকর্মী মাছরাঙা টেলিভিশনের প্রতিবেদক জোবায়ের আহমেদ জানান, রাত দেড়টা পর্যন্ত অফিসেই ছিলেন সাগর। আমারও রাতে ডিউটি ছিল। ১টার পরও তার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। সকালে এ ঘটনা শুনে আমি হতভম্ব হয়ে যাই।
হাতে ছুরি-পিস্তল ছিল : পুলিশ জানায়, নিহত দম্পতির ছেলে মেঘ তাদের বলেছে, রাতে তাদের বাসায় ক’জন লোক আসে। এদের মধ্যে দুজনকে সে পিকনিকে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখেছে। এ দুজনকে সে দেখলে চিনতে পারবে। এসময় তার বাবা বাসায় ছিলেন না। রাতে তার মা ওই লোকদের জন্য ডিম ভেজে দেন। তারা বাসায় বসে বিভিন্ন কথা বলেছে।
এদিকে এটিএন বাংলা তাদের প্রতিবেদনে জানায়, মেঘ বলেছে তার মা-বাবার হত্যাকারী (দুর্বৃত্তদের) হাতে ছুরি ছিল, পিস্তল ছিল। শুক্রবার স্কুলের পিকনিক থেকে ফিরে ক্লান্ত থাকায় আগেই নিজের ঘরে ঘুমিয়ে পড়ে মেঘ। সকালে ঘুম থেকে উঠেই বাবা-মায়ের ক্ষতবিক্ষত দেহ দেখে চিত্কার করে কাঁদে। এরপর সে তার নানিকে ফোন করে জানায়।
সিআইডি আলামত সংগ্রহ করতে পারেনি : হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (২১ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা) আবদুল কাহহার আকন্দ ঘটনাস্থলে যান। সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে দাবি করলেও সিআইডির অপর এক সদস্য বলেন ভিন্ন কথা। নাম প্রকাশ না করে ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ঘটনা তদন্তের জন্য সিআইডি পুলিশের ৫ সদস্যের একটি দল কাজ করে। কিন্তু ঘণ্টাব্যাপী কাজ করার পরও কোনো আলামত উদ্ধার করতে পারেননি তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, খুনের জায়গাটা আলাদা করে রাখা (কর্ডন) হয়নি। বাড়িতে মানুষের প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করেনি কেউ।
পুলিশের ভূমিকা প্রসঙ্গে ওই কর্মকর্তা বলেন, পুলিশ ইচ্ছা থাকার পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। তাই আমরা বিশেষ কোনো আলামত পাইনি। সিআইডি কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক বলেন, দুই সাংবাদিককে খুন করা হয়েছে। আমরা নিশ্চিত হয়েছি একাধিক ব্যক্তি এ ঘটনা ঘটিয়েছে। বাড়ির এক জায়গায় ৮ ইঞ্চির মতো গ্রিল কাটা আছে। তবে এখান থেকে কোনো মানুষের বের হয়ে যাওয়া বা প্রবেশ কোনো অবস্থাতেই সম্ভব নয় বলে মন্তব্য ওই সিআইডি কর্মকর্তার।
পুরুষ কণ্ঠে কান্নার শব্দ : ওই বাসার ভাড়াটিয়া সমিতির সভাপতি চারতলার বাসিন্দা নুরন্নবী জানান, ভোর ৫টা-সাড়ে ৫টার দিকে ফজরের নামাজের জন্য উঠলে পুরুষ কণ্ঠে কান্নার শব্দ পাই। পরে নিরাপত্তা কর্মীকে জানালে সে ঘুরে এসে বলে পাশের বাসা থেকে শব্দ আসছে।
আটক নিরাপত্তাকর্মী পলাশ জানিয়েছে, ফজরের আজানের কিছু আগে সমিতির সভাপতি নুরন্নবী আমাকে ফোন করে বলেন, এখানে কোথাও কান্নার শব্দ শোনা যাচ্ছে, খোঁজ নিয়ে দেখ। আমি ওপরে উঠে ঘটনাস্থলের আশপাশে দুবার চাপা কণ্ঠে কান্নার শব্দ পাই। এরপর আর কিছু শুনতে পাইনি। এর কিছু পর ফজরের আজান হয়।
ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের বক্তব্য : সাগর-রুনির পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা হামিদা সুলতানা জানান, রুনিদের বাসায় শুক্রবার সন্ধ্যার পর কথাবার্তার শব্দ শুনে তার ধারণা হয়েছিল বাসায় মেহমান এসেছে। তবে ভবনের গেটে নিরাপত্তারক্ষীদের লগবুকে শুক্রবার কোনো অতিথি আসার তথ্য পাওয়া যায়নি।
ষষ্ঠতলার বাসিন্দা তাজমিন তানিয়া সাংবাদিকদের বলেন, সকাল ৮টার দিকে তার ছেলে কোচিংয়ে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হলে নিচে নিরাপত্তাকর্মী জানায়, পুলিশ না এলে যাওয়া যাবে না। তখন তিনি নিচে নেমে খুন হওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন।
তিনি আরও জানান, বাসার ছাদের গেট রাত ৮টার দিকে তালাবদ্ধ করা হয়। এছাড়া নিচের গেটে নাম-ঠিকানা না লিখে কাউকে ঢুকতে দেয়া হয় না।
ডিআরইউ প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের ঢল, আজিমপুরে দাফন : নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার সাগর সারওয়ার ও তার স্ত্রী মেহেরুন রুনির লাশ বিকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) প্রাঙ্গণে নেয়া হলে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ সময় তাদের অনেক সহকর্মী কান্নায় ভেঙে পড়েন। সেখানে তাদের প্রথম জানাজা হয়। বিকাল চারটায় অনুষ্ঠিত এ জানাজায় সাংবাদিক এবং রাজনীতিবিদদের ঢল নেমেছিল। সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে কফিনে ফুল দিয়ে সহকর্মীদ্বয়কে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়।
ডিআরইউর এ জানাজায় অংশ নেন তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, স্থানীয় সরকার ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা শওকত মাহমুদ, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, বিএনপি চেয়ারপার্সনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, সিনিয়র সহসভাপতি নুরুল আমিন রোকন, সিনিয়র সহকারী মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, বিএফইউজের আরেক অংশের মহাসচিব আবদুল জলিল ভূঁইয়া, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, সিনিয়র সহসভাপতি কাজী রওনাক হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, ডিআরইউ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা এবং সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু, পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম চৌধুরীসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ সংবাদকর্মীরা।
জানাজা শেষে জাতীয় প্রেস ক্লাব, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, ওয়ার্কার্স পার্টি, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, রংপুর বিভাগ সাংবাদিক সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
বিএফইউজে সভাপতি রুহুল আমিন গাজী জানাজা শেষে সাংবাদিকদের বলেন, সাংবাদিক হত্যা যেন এখন নেশায় পরিণত হয়েছে। তিনি অবিলম্বে মেহেরুন রুনি এবং সারওয়ারের হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। তিনি বলেন, যেভাবে সাংবাদিক হত্যা চলছে এই অবস্থা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। দোষীদের শাস্তি দেয়া না হলে গোটা বাংলাদেশের সাংবাদিক সমাজ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
এরপর মরদেহ দুটি নেয়া হয় মাছরাঙা টেলিভিশন প্রাঙ্গণে। সেখানে তাদের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মরদেহের পাশে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে পুরো মাছরাঙা পরিবার। সহকর্মীদের সবাই সাগর ও রুনির মরদেহের পাশে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
মেহেরুন রুনির কর্মস্থল বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন বাংলা প্রাঙ্গণে সাগর-রুনির তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এটিএন বাংলা পরিবারসহ কারওয়ানবাজার এলাকায় অবস্থিত সংবাদ মাধ্যমের কর্মীরা এই জানাজায় অংশ নেন।
জানাজার পর সাংবাদিক দম্পতির মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান এটিএনের চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমান, কথাসাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হক এবং কারওয়ানবাজারে অবস্থিত সব মিডিয়া হাউসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংবাদকর্মীরা।
এখান থেকে তাদের মরদেহ রাজধানীর পান্থপথের বৌবাজারে রুনির বাবার বাড়িতে নেয়া হয়। এ সময় সাংবাদিক দম্পতিকে একনজর দেখার জন্য স্থানীয় জনগণের ঢল নামে। বৌবাজারে রুনির খালা মিসেস ইমদাদ হোসেনের বাসায় কিছুক্ষণ সাংবাদিক দম্পতির লাশ রাখা হয়। এ সময় রুনির বৃদ্ধ মা নুরুন্নাহার বেগমসহ নিকটাত্মীয়দের বুকফাটা কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। এরপর তাদের মরদেহ নেয়া হয় সাগরের পৈতৃক নিবাস পুরনো ঢাকার নবাবপুরে। এখানে আরেকদফা জানাজা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।
সাগরের গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া : সাগর সারওয়ার ও তার স্ত্রী মেহেরুন রুনি শুক্রবার রাতে দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হওয়ার পর সাগর সারওয়ারের পৈতৃক ঠিকানা পাবনার ছোট নওগাঁ কাজীরহাট গ্রামেও শোকের ছায়া নেমেছে। স্বজনরা হতবিহ্বল হয়ে পড়েছেন। তারা মেনে নিতে পারছেন না সাগর দম্পতির এই মর্মান্তিক মৃত্যু। বাড়িতে থমথমে অবস্থার মধ্যে সবাই নিশ্চুপ। কৃতী সন্তানের মৃত্যুতে শোকে আচ্ছন্ন গোটা গ্রাম। তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, আত্মীয়-স্বজনরা ঘরে টেলিভিশনের পর্দায় তাদের চোখ নিবদ্ধ করে রেখেছেন। সাগরের মৃত্যু-পরবর্তী খবর দেখা ও জানার জন্য তাদের মনে আকুতি। আলাপকালে তারা জানান, অধিকাংশ আত্মীয়-স্বজন শনিবার সকালে মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরপরই ঢাকায় চলে গেছেন।
সাগর সারওয়ারের বড় চাচা হারুন অর রশিদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সকাল ৮টার দিকে আমি পাবনায় যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হই। এমন সময় আমার ছেলে কায়েম উদ্দিন মোবাইলে আমাকে সাগর ও তার স্ত্রীর মৃত্যুর খবর জানায়। তখন আমরা সবাই টেলিভিশন অন করে খবরটি দেখি। তিনি জানান, সাগর ও তার স্ত্রীর মৃত্যুর খবর জানার পরপরই তার চাচাতো ভাই, ভাতিজা, ভাগ্নেসহ অন্যরা ঢাকায় চলে যায়।
সাগরের চাচাতো ভগ্নিপতি নুরুল হক ফকির বলেন, অনেকদিন সাগরকে দেখিনি। এখন টিভির পর্দায় দেখছি। তবে জীবিত দেখতে পারলাম না। সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে তার ছোট্ট শিশুটির কথা ভেবে। এ কষ্ট বলে বোঝানোর মতো নয়।
সাংবাদিকদের প্রতীকী কর্মবিরতি : সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার এবং মেহেরুন রুনির হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা প্রতীকী কর্মবিরতি পালন করেছেন। গতকাল দুপুর দেড়টার দিকে প্রেস ক্লাবের মূল ফটকের সামনে প্রায় ১৫ মিনিটের জন্য তারা প্রতীকী কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রায় অর্ধশত সাংবাদিকরা এতে অংশ নেন।
মুষড়ে পড়েছেন সাংবাদিকরা : শুক্রবার গভীর রাতে ঘটে যাওয়া রুনি-সাগর হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি স্তব্ধ করে দিয়েছে সবাইকে। সাংবাদিক পরিবারের বন্ধুরা মুষড়ে পড়েছেন। এর কোনো সান্ত্বনা নেই কারও কাছেই। আছে সীমাহীন কষ্ট আর গভীর বেদনা। মর্মান্তিক এ ঘটনায় সংবাদমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক নেতারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা বলেন, আমার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও স্নেহভাজন ছিলেন মেহেরুন রুনি ও সাগর সারওয়ার। সদা হাসিখুশি থাকা এ দুটি মানুষের মৃত্যু আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না। এটা অকল্পনীয় একটি ঘটনা। এ ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি। হত্যাকারীদের অবিলম্বে খুঁজে বের করতে হবে আমাদের প্রশাসনকে।
বিএফইউজের সিনিয়র সহকারী মহাসচিব এম আবদুল্লাহ বলেন, সাগর ও রুনি দুজনের সঙ্গে জ্বালানি বিটে দীর্ঘদিন কাজ করার সুযোগ হয়েছে। দুজনই খুব বন্ধুবত্সল। ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্সে একই কমিটিতে দায়িত্ব পালনের সুবাদে তাদের সঙ্গে অত্যন্ত মধুর সম্পর্ক ছিল আমার। দুজনই খুবই প্রাণবন্ত ও সদা হাস্যোজ্জ্বল ছিলেন। কোনো অহঙ্কার ছিল না। অত্যন্ত প্রতিভাবান এ দুই সংবাদকর্মীর নৃশংস হত্যাকাণ্ডে গোটা সাংবাদিক সমাজ শোকবিহ্বল ও বিক্ষুব্ধ। খুনিদের খুঁজে বের করার গতানুগতিক সরকারি আশ্বাসেই যাতে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেটাই আমরা দেখতে চাই।
ডিইউজের সাবেক সভাপতি আলতাফ মাহমুদ বলেন, এ খবর শুনে আমি স্তম্ভিত হয়ে পড়েছি। কী করব, কী বলব—কিছুই ভেবে পাচ্ছি না। এ শোক ভোলার নয়। মেধাবী এ দুজনকে হারিয়ে আমাদের দিশেহারা হওয়ার মতো অবস্থা।
প্রতিবাদ সমাবেশ : আজ বেলা ১১টায় প্রেস ক্লাবের সামনে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, বিএফইউজে এবং ডিইউজের যৌথ মানববন্ধন এবং প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে সর্বস্তরের সাংবাদিকদের উপস্থিতি কামনা করা হয়েছে।

Saturday, December 24, 2011

৬ মাসেও খোঁজ মেলেনি ব্যবসায়ী তপন দাসের


সিরাজুল ইসলাম: ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ধরে নেয়ার ৬ মাসেও কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি শ্যামপুরের নবীনচন্দ্র গোস্বামী রোডের ব্যবসায়ী তপন দাসের। পরিবারের সদস্যদের দাবি- আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অপহরণ করেছে তপনকে। ঘটনাটি অন্যদিকে প্রবাহিত করতে পুলিশ কেবল জানতে চাচ্ছে জমিজমা নিয়ে কারও সঙ্গে তপনের বিরোধ ছিল কি-না। তপন দাসের স্ত্রী সুমি দাস জানিয়েছেন, এ সংক্রান্ত কোন বিরোধ কারও সঙ্গেই ছিল না। ২০শে মে ডিসেম্বর তার বাসায় গিয়ে দেখা যায় ৩০ বছর বয়স্ক গৃহবধূ সুমি দাস স্বামীর স্মৃতি হাতড়িয়ে বেড়াচ্ছেন। ৩ শিশু জিতু (১০), সেতু (৯) এবং কার্তিক (২) অপেক্ষা করছেন- কখন তাদের বাবা বাসায় ফিরবেন। গত ক’দিন ধরেই জ্বরে কাতরাচ্ছে জিতু। তার নানি মাথায় পানি ঢালছেন। জিতু কেবলই তার বাবাকে ডাকছে। ২ বছরের কার্তিকও খুঁজে বেড়াচ্ছে বাবাকে। মা ও নানি তাদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন- বাবা চলে আসবে তোমাদের জন্য চকলেট নিয়ে। আনবে শীতের কাপড়। আরও অনেক কিছু।
সুমি দাস জানায়, সাড়ে ৫ মাস ধরে আমার স্বামীকে হন্যে হয়ে খুঁজছি। ৩রা আগস্ট রাত সাড়ে ৮টায় তাকে গ্রেপ্তার করে মিণ্টো রোডের ডিবি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। ডিবি পুলিশ এ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তারের কথা স্বীকার করছে না। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার সয়ম তিনি চোখের পানি সংবরণ করতে পারছিলেন না। আঁচল দিয়ে চোখের পানি মুছতে মুছতে জানান, পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস ছিল প্রাণপ্রিয় স্বামী। ৩ ছেলেকে নিয়ে কিভাবে সাংসার চালাব? তাদের মানুষ করবে কে? এসব ভেবে যখন কূলকিনারা পাচ্ছিলাম না তখন ২ ভাই এসে হাল ধরছেন আমার সংসারে। ছোটভাই রঞ্জন মোটর পার্টস ব্যবসা ও সুজন স্বর্ণের দোকানে কাজ করে আমার সংসারে টাকা-পয়সা দিচ্ছে। তারা কতদিন দিতে পারবে এটাই প্রশ্ন? এ পরিস্থিতিতে আমি কেবল একটি খবরের প্রত্যাশায় প্রহর গুনছি। কখন আসবে সেই কাঙ্ক্ষিত খবরটি- তোমার স্বামীকে ‘অমুক’ জায়গায় পাওয়া গেছে। যেখান থেকেই খবর আসুক না কেন আমি মুহূর্তের মধ্যে ছুটে গিয়ে সেখান থেকে তাকে ঘরে নিয়ে আসবো। আমার অপেক্ষা আর শেষ হচ্ছে না। টেলিভিশনে একের পর এক গুম ও লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে আমি দুর্বল হয়ে পড়ছি। তারপরও যেখানে লাশ উদ্ধারের খবর পাচ্ছি সেখানে ছুটে যাচ্ছি।
সুমি জানায়, তপন এবং গোবিন্দ্র একটি রিকশা দিয়ে তাঁতিবাজার মন্দিরের সামনে থেকে রিকশা নিয়ে বাসায় আসছিল। তার সঙ্গে ছিল একই এলাকার বাসিন্দা গোবিন্দ। রিকশায় উঠেই সন্তানদের খোঁজ নিয়েছিল- তারা খাবার খেয়েছে কি-না? রিকশাটি ছাতা মসজিদের সামনে আসতেই একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাস এসে রিকশার গতিরোধ করে। একজন নিজেকে ডিবির কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে জানতে চায় তার নাম তপন কি-না। তপন হ্যাঁ সূচক জবাব দিতেই তাকে গাড়িতে তুলে নেয়। এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায়। গাড়িতে তুলে কেড়ে নেয়া হয় তার মোবাইল ফোন। কালো কাপড় দিয়ে বেঁধে ফেলা হয় চোখ। পরানো হয় হ্যান্ডকাফ। পরে কালো গ্লাসের গাড়ি থেকে আর একজন নেমে এসে রিকশায় থাকা গোবিন্দের মোবাইল ফোনটিও নিয়ে যায়। পরে তাকেও উঠানো হয় গাড়িতে। তাদের রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরিয়ে ডিবি অফিসের সামনে নিয়ে গোবিন্দকে নামিয়ে দেয়া হয়। তাকে বলা হয় সোজা চলে যা। পেছনের দিকে তাকাবি না। তপনকে নিয়ে গাড়িটি ডিবি অফিসে ঢুকে যায়। তারা গোবিন্দের মোবাইল ফোনটি ফেরত দেয়নি। রাত সাড়ে ১০টার দিকে গোবিন্দ বিষয়টি আমাকে জানায়। এরপর ডিবি অফিসে গেলে গ্রেপ্তারের বিষয়টি আস্বীকার করা হয়। পরদিন শ্যামপুর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ জিডি নেয়। জিডি নম্বর ১৯২। সুমি জানান, আমার স্বামীর নামে থানায় কোন মামলা বা জিডি নেই। সে একজন জমি ব্যবসায়ী। কারও সঙ্গে কোন বিরোধ নেই। তপন যদি কোন অন্যায় করে থাকে তাহলে আমি ক্ষমা চাই। তারপর যেন আমার তিন সন্তানকে এতিম করা না হয়। আমাকে বিধবা বানানো না হয়। তিনি বলেন, তপনের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র ছিল। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর উচিত ছিল এটা দেখার পর নিরপরাধ মানুষটিকে ছেড়ে দেয়া। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন- আমরা কোন দেশে আছি? তিনি বলেন, যেখানে জাতীয় পরিচয়পত্রের কোন মূল্যায়ন নেই সেখানে এটা দিয়ে কি করব। আর কখনও ভোট দেব না। ছেলেদেরও বলে দেব তারাও বড় হয়ে যেন ভেটা না দেয়। তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী যদি আমার স্বামীকে ধরে নিয়ে না যেত তাহলে তাকে ডিবি অফিসের সামনে নিয়ে যাওয়া হলো কেন? সন্ত্রাসীরা কি নিরপরাধ মানুষকে ধরে এত দূর থেকে ডিবি অফিসে নিয়ে যাওয়ার সাহস পাবে? তিনি বলেন- আমি জানি আসল ঘটনা কি? তারপরও সাহস করে আসল সত্য সরাসরি বলতে পারছি না। কারণ, স্বামীকে হারানোর পর নিজ, ৩ সন্তান এবং ২ ভাইয়ের নিরাপত্তার কথা ভাবছি। এদের হারাতে চাই না। চাই না তাদের জীবন হুমকির মধ্যে ফেলতে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন- আপনি যে আমার বাসা থেকে নিরাপদে অফিসে পৌঁছতে পারবেন এর কি নিশ্চয়তা আছে? সুমির সঙ্গে কথা বলার সময় তার সঙ্গে ছিল ভাই রঞ্জন। তিনি জানান, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর হস্তক্ষেপ ছাড়া এ ঘটনা ঘটেনি। আমরা সরাসরি মুখ খুললে তারা আমাদেরও নিয়ে যেতে পারে। সুমি জানান, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অভিশাপ দেয়া ছাড়া আমার কাছে আর কিছু নেই। যারা আমার ছেলেদের পিতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত করছে, স্বামীর সোহাগ থেকে আমাকে বঞ্চিত করছে তাদের ওপর আমাদের অভিশাপ রইল। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী দীর্ঘদিন নীরব ছিল। হঠাৎ করে তারা আমাকে মামলা করার জন্য চাপ দেয়। অবশেষে তাদেরই পরামর্শে অজ্ঞাতদের আসামিকে করে গত ১১ই ডিসেম্বর গেণ্ডারিয়া থানায় মামলা করেছি। এসআই আবুল কালামকে এর তদন্তভার দেয়া হয়েছে। তপনকে অপহরণের পর ৩ দফায় তার মোবাইল ফোন খোলা পেয়েছি। সর্বশেষ ২২শে নভেম্বর তার মোবাইল ফোনটি চালু ছিল। পুলিশকে জানানোর পর কললিস্টের সূত্র ধরে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এমনকি আমার স্বামী উদ্ধার করতে পারছে না। পুলিশ কেবল বলছে- অনেক দেরি হয়ে গেছে।
গেণ্ডারিয়া থানার ওসি ফারুক আহমেদ বিপিএম মানবজমিনকে জানান, আমরা তদন্তে নিশ্চিত হয়েছি- জমি ব্যবসার বিরোধের জের ধরেই এ ঘটনা ঘটেছে। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তারা তপনের সঙ্গেই ব্যবসা করতো। তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম বলা যাচ্ছে না। তিনি জানান, স্বামীকে হারানোর পর সুমিকে খুব একটা চিন্তিত মনে হচ্ছে না। অধিক শোকেও এটা হতে পারে। তিনি বলেন, ঘটনাকে অন্যদিকে প্রবাহিত করতেই ক্রিমিনালরা গাড়িটি ডিবি অফিসের সামনে নিয়ে গিয়েছিল। ডিবি অফিসের সামনে গোবিন্দকে নামিয়ে দিয়ে গাড়িটি পল্টনের দিকে চলে যায়। পুরো বিষয়টি নিয়েই আমরা তদন্ত করছি। আশা করছি শিগগিরই আসল ঘটনা আপনাদের জানাতে পারবো।

Tuesday, November 22, 2011

অভিজাত ফ্ল্যাট থেকে রহস্যময়ী নারী ও শিশু উদ্ধার

তিন মাস ধরে ফ্ল্যাট ভাড়া দিচ্ছেন না আজমেরী সুপ্তি জেসি চাইতে গেলে বরং বাড়িওয়ালাকে গালমন্দ করছেন এ অবস্থায় সুপ্তিকে ফ্ল্যাট থেকে নামিয়ে দিতে বাড়িওয়ালা নাছিমা হক রমনা থানা পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছেন সুপ্তির রহস্যময় জীবনযাপন ও অসংলগ্ন কথাবার্তায় পুলিশও সমস্যায় পড়েছিল পরে মানসিক রোগী বিবেচনায় সুপ্তিকে এক বছরের শিশুসন্তানসহ ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নেওয়া হয়
বাড়ির মালিক নাছিমা হক জানান, ৭২ নম্বর সেগুনবাগিচার নাভানা ডাইপেনসিয়ার সি/৫-এ ফ্ল্যাটটির মালিক তিনি। দুই বছর আগে ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেন আশরাফ ভুট্টো ও তার স্ত্রী সুপ্তি। এ দম্পতি নিজেদের ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়েছিলেন। এখানে থাকা অবস্থায় এক বছর আগে তাদের একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। তিন মাস ধরে তারা ভাড়া দেওয়া বন্ধ করে দেন। ভাড়া চাইতে গেলে দুর্ব্যবহার করতেন সুপ্তি। আশরাফকে দীর্ঘদিন পাওয়া যাচ্ছে না। নাছিমা হককে সুপ্তি জানিয়েছিলেন, তিনি আমেরিকার নাগরিক। আশরাফের সঙ্গে প্রেম করে মা-বাবাকে ছেড়ে বাংলাদেশে চলে আসেন। তিনি আরও জানান, এক মাস ধরে সুপ্তি ঘর থেকে বের হতেন না। দরজা-জানালা আটকে সন্তানকে নিয়ে অন্ধকার ঘরে বসে থাকতেন। কেউ দরজার কড়া নাড়লে তার দিকে তেড়ে যেতেন। প্রতিবেশীরা মাঝে মধ্যে তাকে খাবার দিতেন। একপর্যায়ে সুপ্তির ভাসুর ধানমণ্ডির বাসিন্দা আরশাদকে খবর দেওয়া হয়। তিনি সুপ্তিকে বাসা থেকে নামিয়ে দেওয়ার কথা বলেন।
গতকাল সরজমিনে দেখা যায়, ফ্ল্যাটে তিনটি বাথরুম থাকলেও তা কখনও ব্যবহার করেনি ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা। মল-মূত্র ত্যাগ করেছে বেডরুমে ও বারান্দায়। ওয়ারর্ড্রোফের কাপড়-চোপড় রাখা হয়েছে ডিপ ফ্রিজে। ফ্ল্যাটের টেলিফোন ও বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন। কখনও খোলা হয়নি জানালা ও দরজা। ফ্ল্যাটের যে অংশ দিয়ে আলো ও বাতাস প্রবেশ করার সম্ভাবনা ছিল তাও কাগজ ও ছেঁড়া কাপড় দিয়ে বন্ধ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এমন ভুতুড়ে ও বন্য পরিবেশে বাস করছিল সুন্দরী এক গৃহবধূ ও ফুটফুটে এক বাচ্চা। রোববার বিকালে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের যৌথ টিম অভিযান পরিচালনা করে তাদের উদ্ধার করেছে। বর্তমানে তাদের তেজগাঁওয়ের ওমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন সেন্টারের হেফাজতে রাখা হয়েছে। ওমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন সেন্টারের ডিসি শামীমা বেগম বলেন, উদ্ধারকৃত গৃহবধূর নাম আজমেরি সুপ্তি জেসি (৩০)। তার স্বামীর নাম মো. আশরাফ হোসেন ওরফে গুড্ডু। তার কোলে থাকা ফুটফুটে কন্যা শিশুটির বয়স প্রায় এক বছর। সঠিক নাম জানা যায়নি। তিনি বলেন, ৭২ নম্বর বাড়ির ওই ফ্ল্যাটের মালিক রমনা থানায় একটি জিডি করেছিলেন। সেই জিডির সূত্র ধরে রমনা থানা পুলিশ ও ঢাকা জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ওমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করেছে। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধারকৃত মহিলাকে মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হয়েছে। নানা অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেছেন। জেসি নিজেকে মার্কিন নাগরিক দাবি করেছেন। সরকারের শীর্ষ মহল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক তাদের প্রাণ নাশ হওয়ার অভিযোগ করেছেন। এ কারণেই তিনি কখনও বাইরে বের হন না। দরজা ও জানালা বন্ধ করে রাখেন। সূর্যের আলো ছাড়াও যে কোন ধরনের আলোক রশ্মি তার জীবনের জন্য ভয়ঙ্কর। এর আগে এক ধরনের আলোক রশ্মি দিয়ে তার তিন সন্তানকে হত্যা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন। ফ্ল্যাটের মালিক নাসিমা হক বলেন, প্রায় দু’বছর আগে আশরাফ হোসেন ওরফে গুড্ডু নামে এক ব্যবসায়ী তার ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। মাসে ২২ হাজার টাকা ভাড়া দিতেন। এডভান্সও দিয়েছিলেন। প্রথমদিকে নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করলেও গত তিন মাস ধরে ভাড়া দেন না। ভাড়া ছাড়াও বিভিন্ন বিল বাবদ তাদের কাছে প্রায় লক্ষাধিক টাকা পাওনা রয়েছে। এ অবস্থায় গত প্রায় এক মাস আগে জেসির স্বামী আশরাফ পালিয়ে যায়। তার কোন হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। আশরাফের স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে গেলেও তিনি দরজা খোলেন না। সমপ্রতি বাড়ি মেরামতের জন্য কয়েকজন মিস্ত্রি ওই বাসায় প্রবেশ করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। বমি করতে করতে বাসা থেকে দৌড়ে বের হয়। ফ্ল্যাটের ভুতুড়ে অবস্থা জানালে রমনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি। ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেবেকা সুলতানা বলেন, ফ্ল্যাটটি সিলগালা করে দেয়া হয়েছে। উদ্ধারকৃত মহিলা ও শিশুটির সম্পূর্ণ পরিচয় পাওয়া যায়নি। রমনা থানা সূত্রে জানা গেছে, জেসির স্বামী আশরাফ ধনীর দুলাল। পুরান ঢাকার ৪/১, আবুল হাসনাত রোডে প্রায় কয়েক কোটি টাকার ভূ-সম্পত্তি রয়েছে। পরিবারের চাপে ওই স্ত্রীকে পরিত্যাগ করার জন্য তিনি দেশের বাইরে পালিয়ে যান। দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। সেই কলহের সূত্র ধরেই জেসি মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে থাকতে পারেন। প্রতিবেশীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা উপোস ছিল। বাসায় কোন খাবার ও অর্থকড়ি ছিল না। রাত হলেই তাদের কান্নার আওয়াজ পাওয়া যেত। প্রকৃত অভিভাবক পাওয়া গেলে তাদের কাছে মা ও শিশুকে হস্তান্তর করা হবে। রমনা থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে উদ্ধার হওয়া মহিলা বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক।
গতকাল সোমবার সুপ্তির আচরণ পর্যবেক্ষণ করেছেন একাধিক মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ। তাদের কাছে সুপ্তি শুধু ভয় আর শঙ্কার কথা জানিয়েছেন। পিতৃপরিচয় জানতে চাইলে তিনি বারবার উত্তেজিত হয়ে পড়ছেন। সুপ্তির ধারণা, তাকে যারা সাহায্য করতে আসবেন তাদের সাবাইকে মেরে ফেলা হবে। তিনি বারবার বলছেন, 'আমার স্বামীকে ওরা অপহরণ করে আটকে রেখেছে। আমার ব্যবসা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও পাসপোর্টও ওরা লুট করেছে।'
ঢাকা আহছানিয়া মিশনের মনোরোগ চিকিৎসক ডা. রাহেনা বেগম সমকালকে বলেন, সারাদিন অনেক চেষ্টা করেও সুপ্তির পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। যে কোনো কঠিন মানসিক আঘাত বা নির্যাতনের কারণে তার এ অবস্থা হতে পারে।

Monday, October 10, 2011

মা-বাবার দাম্পত্য কলহের বলি রিদিতা


ভেঙে গেছে মা-বাবার সোনার সংসার! এর আগে তাদের মধ্যে চলে কলহ। হয়তো অনেক চেষ্টা করেও মা-বাবার ভাঙা সংসার জোড়া লাগাতে পারেনি সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী রিদিতা। হয়তো এই অভিমানেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিল কিশোরীটি। গতকাল রোববার সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নানাবাড়ি থেকে রিদিতার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
ভালো নাম দিহান মেহজাবিন রিদিতা। সে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের আজিমপুর শাখার ছাত্রী। মা ফাতেমা সুলতানা চৌধুরী ভিকারুননিসা নূন স্কুলেরই শিক্ষক। বাবা শেখ আলিউজ্জামান হোমিও চিকিৎসক। কিছুদিন আগে আলিউজ্জামান নিজের পিএকে বিয়ে করেন। এরপর থেকে রিদিতা মায়ের সঙ্গে রাজধানীর মোহাম্মদপুর টিক্কাপাড়ার হাজি চিনু মিয়া রোডের ১৫এ/৯ নম্বর বাড়িতে থাকত। নিহতের মামা কাওসার চৌধুরী রনী বলেন, গতকাল সকাল সাড়ে ৭টায় বাসার বেডরুমে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় রিদিতার ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়। এর আধঘন্টা আগে তার মা ফাতেমা সুলতানা স্কুলে চলে যান। প্রতিদিন মায়ের সঙ্গে স্কুলে গেলেও গতকাল শরীর খারাপের কথা বলে বাসায় থেকে যায় রিদিতা। তিনি আরও বলেন, ফাতেমা-আলিউজ্জামান দম্পতি রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে থাকতেন। যাত্রাবাড়ীতেই আলিউজ্জামানের চেম্বার। এই চেম্বারের পিএর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন আলিউজ্জামান। এ নিয়ে কয়েক বছর ধরে ফাতেমার সঙ্গে আলিউজ্জামানের কলহ চরমে পৌছে। প্রায়ই স্বামীর নির্যাতনের শিকার হতেন ফাতেমা।
জানা গেছে, তিন মাস আগে স্বামীর বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় নারী নির্যাতন মামলা করেন ফাতেমা। এ মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যান আলিউজ্জামান। এরপর আপস করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জামিন নেওয়ার পর আলিউজ্জামান আবারও বেঁকে বসেন। মা-বাবার দীর্ঘদিনের কলহ সহ্য করতে না পেরে রিদিতা আত্মহত্যা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রিদিতার মৃত্যুর ব্যাপারে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। সকালেই মেয়ের মৃত্যুর খবর দেওয়া হলেও সন্ধ্যা পর্যন্ত লাশ দেখতে আসেননি আলিউজ্জামান। এদিকে মেয়েকে হারিয়ে ফাতেমা হয়ে পড়েছেন বাকরুদ্ধ। মোহাম্মদপুর থানার এক এসআই বলেন, আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে অভিভাবকের বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে।

Monday, October 3, 2011

রূপগঞ্জে প্রেম প্রত্যাখ্যান করায় ধর্ষণের পর হত্যা


রূপগঞ্জ উপজেলার ভোলাবো গ্রামের এক যুবকের প্রেম প্রত্যাখ্যান করায় যুবতী রুমা রানী দাস (১৮) কে গত ১লা অক্টোবর শনিবার রাতে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ভোলাবো গ্রামের সিরাজুল ইসলামের বখাটে ছেলে ডালিম পূর্ণ রবি দাসের মেয়ে রুমা রানী দাস (১৮) কে প্রেম নিবেদন করে আসছিল। রুমা প্রেম প্রত্যাখ্যান করে। পরে গত শনিবার রুমা রানীর পিতা-মাতা তার মামার বাড়ি কালীগঞ্জে বেড়াতে গেলে লম্পট ডালিম (২৪), তার সহযোগী নুরু মুন্সির ছেলে ফারুক (৩০), মজনু মিয়ার ছেলে শামীম (২৫) ও রফিকুল ইসলাম (২৬) রুমার বসতঘরে রাতে প্রবেশ করে ধর্ষণের পর মুখে কাপড় বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করে। নিহতের বাবা পূর্ণ রবি দাস জানান, বখাটে ডালিমের ভয়ে রুমা রানীর লেখাপড়া গত ২ বছর আগে বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। তাতেও আমার মেয়ের শেষ রক্ষা হলো না। বখাটেরা আমার মেয়েকে নির্যাতনের পর হত্যা করে। রূপগঞ্জ থানার ওসি মজিবর রহমান জানান, লাশ উদ্ধার করে নরসিংদী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। নিহত রুমা রানী দাসের পিতা পূর্ণ রবি দাস বাদী হয়ে ৪জনকে আসামি করে রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন।